Tuesday, May 3, 2016

সংক্ষিপ্ত সময়ের দ্রুত প্রস্তুতি


সংক্ষিপ্ত সময়ের দ্রুত প্রস্তুতি
প্রসঙ্গ : সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষা
:
বিশ্লেষণে : সত্যজিৎ চক্রবর্ত্তী
( Satyajit Chakraborty )
__________________________________________________
এত দ্রুতগতিতে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ এর আগে কেউ শুনেছে কি না সন্দেহ! ১৩ এপ্রিল সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল। আর ২০ মে প্রিলি পরীক্ষা। আজই ঘোষিত হল পরীক্ষার তারিখ। হাতে আছে মাত্র ১৭ দিন। ২ দিন গাড়িতে/ ট্রেনে করে ঢাকায় যাতায়াত আর ক্লান্তিতে চলে যাবে। তার মানে প্রস্তুতির জন্য মাত্র ১৫ দিন সময়। যেখানে অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় রিভিশন দেয়ার জন্য ও ১ মাস সময় থাকে সেখানে মুল প্রস্তুতিই নিতে হবে এই ১৫ দিনে, রিভিশন দুরে থাক!
:
আমি সত্যজিৎ মনে করি যেখানে দুর্যোগ সেখানেই সুযোগ। এই স্বল্প সময়ের অবস্থা দেখে অনেকেই আশা ছেড়ে দিবেন। আবার যারা সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছেন তারা প্রত্যকে আদালতে শিক্ষানবীশ আইনজীবী বা এডভোকেট হিসেবে আছেন। তার মানে অনেকের পিছু টান কম। অনেকে হয়তো শুধু পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ আছে বলেই পরীক্ষা দিচ্ছেন। এতটা সিরিয়াস না। তার উপর অনেক আশাজীবী প্রানী ও এত দ্রুত পরীক্ষার তারিখ শুনে হতাশায় ভুগছেন, অতঃপর আশাও ছেড়ে দিয়েছেন। তার মানে কোয়লিফাই হওয়ার জন্য সিরিয়াস প্রার্থী মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন। এখন মাঠ অনেকটা খালি। এই মুহুর্তে যারা একটু সিরিয়াস হবেন, তাদের খালিমাঠে গোল দেয়ার সুযোগ বেশি।
:
কীভাবে নিবেন প্রস্তুতি?
যেহেতু সময় কম সুতরাং দিনে কমপক্ষে একটা করে টপিক শেষ করতে হবে। তাই এখন উপায় হল বিগত বছরের বা এই বছরের বিসিএস বিশেষ সংখ্যা বইটি ৫ দিনে একবার শেষ করে, ৬ষ্ঠ দিনে পুরোটা রিভিশন দেয়া। জানি এটা অনেক কঠিন কাজ, কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়ে এর চেয়ে ভাল সাজেশন নাই। এরপর একদিনে বিগত বছরের সহকারী জজ নিয়োগ পরিক্ষার প্রশ্ন বুঝে বুঝে সমাধান করা। পাশাপাশি আইনের বিষয়গুলোর প্রশ্ন কেমন হয় তার ধারনা নেয়া। খেয়াল করবেন, বিগত বছরের প্রশ্নগুলোতে ধারা খুব কম এসেছে শুধু সমস্যার সমধান এসেছে বেশি। অতএব
ধারা মুখস্থ করে ব্রেইন ও সময় কোনটাই নষ্ট করার মানে হয়না। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারা অবশ্যই মুখস্থ রাখতে হবে। যেমন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪, ১০৮ সংবিধানের ৪ক, ২২ ইত্যাদি। সময় স্বল্পতার কারনে বিস্তারিত দিতে পারলাম না।
যেমন বিগত বছরের একটি প্রশ্ন দেখুন-
>> একটি বিক্রয় চুক্তি সম্পাদনের কত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন এর জন্য উপস্থাপন করতে হয়?
ক) ৩০ খ) ৬০ গ) ৯০ ঘ) ১২০।
তাহলে দেখুন এখানে ধারা না জানলেও চলবে। অর্থাৎ প্রিলি পরীক্ষায় ধারার চেয়েও মুল বিষয় জানাটাই প্রধান। শুধু কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা মুখস্ত রাখলেই চলবে। বাকিগুলো শুধু ব্যাখ্যা বুঝে পড়বেন, যেন সমস্যার সমাধানটা জানা থাকে।
:
আর কোন কোন আইনগুলো পড়তে হবে তা সিলেবাসে দেয়া আছে। যদি সম্ভব হয় বিগত ৫ বছরে অনুষ্ঠিত সকল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ও বিসিএস এবং জুডিশিয়ারির সকল প্রশ্ন পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

Monday, May 2, 2016

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন

-

২০১৬ সালের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১১ মে প্রকাশ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

রীতি অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফল হস্তান্তর করবেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে করে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই মাসের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। আগামী ১০ বা ১১ মে ফলাফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী ১১ মে ফলাফলের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ১০ মার্চ। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মাথায় গত কয়েক বছর থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবার মোট ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসিতে ১৩ লাখ ৪ হাজার ২৭৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৫ এবং এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) ৯৮ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

Saturday, April 30, 2016

এমবিএ পাশ করা ৯৩ শতাংশই বেকার!

ভারতে মাত্র ৭ শতাংশ এমবিএ গ্র্যাজুয়েটরা নাকি চাকরির জন্য উপযুক্ত! হ্যাঁ, এমনই ভয়ঙ্কর একটি তথ্য উঠে এসেছে অ্যাসোচ্যাম-এর সমীক্ষায়। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আইআইএম-এর মতো দেশের সেরা বিজনেস স্কুলগুলিকে বাদ দিলে বাকি স্কুলগুলি থেকে উপযুক্ত কোনও ছাত্রই তৈরি হচ্ছে না।
ভারত জুড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজারের উপর বিজনেস স্কুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রতি বছরই সেই সব স্কুল থেকে হাজার হাজার ছাত্র পাশ করে বেরোচ্ছে। কিন্তু, তার পর? এই পরের ধাপটাই কিন্তু গোলমেলে। সমীক্ষা বলছে, ওই সব স্কুল থেকে পাশ করা ছেলেমেয়েরা সে ভাবে কাজ জোটাতে পারছে না। আর পারলেও মাত্র ৮-১০ হাজার টাকার চাকরি।


উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর থেকেই অনেক ছেলেমেয়ে উচ্চ স্বপ্ন নিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বেসরকারি বিজনেস স্কুলগুলিতে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু, নিট ফল শূন্য।
কারণ হিসাবে যেটা বলা হচ্ছে, অন্য এই সব প্রতিষ্ঠানে আইআইএম-এর মতো পরিকাঠামো
নেই। ক্যাম্পাসিং-এর ক্ষেত্রেও সেই একই ছবি। শিক্ষার ধরনও অনেক নিম্ন মানের। ফলে ৭০-৮০ শতাংশ নিয়ে পাশ করেও স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে এই সব ছেলেমেয়েদের।

গত ২ বছরে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা বেঙ্গালুরু, আমদাবাদ, লখনউ, হায়দরাবাদ ও দেহরাদূনে প্রায় ২২০টি বি-স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। সমীক্ষায় আরও দেখা গিয়েছে, ২০১১-১২ সেশনের তুলনায় ২০১৫-১৬ সেশনে স্কুলগুলিতে আসনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এক জন সাধারণ মাপের ছাত্র ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে এই সব স্কুলগুলিতে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু পাশ করে বেরোনোর পর চাকরি জুটছে মাত্র ৮-১০ হাজারের।

অ্যাসোচ্যাম-এর সেক্রেটারি জেনারেল ডিএস রাওয়াত বলেন, ‘ভারতে উচ্চ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মাপকাঠির তুলনার অনেক নীচে।’ প্রতি বছর এ দেশ থেকে ১৫ লাখ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র পাশ করে। কিন্তু, তাঁদের মধ্যে ২০-৩০ শতাংশ চাকরি খুঁজে পান না। আবার অনেকে তাঁদের যোগ্যতার তুলনায় ভাল চাকরিও পাচ্ছেন। ফলে একটা ভারসাম্যহীন অবস্থা তৈরি হচ্ছে। আর এই ছবিটাও ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ভারতীয় শিক্ষাজগতের ক্ষেত্রে।

Thursday, April 28, 2016

সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি সংশোধন চূড়ান্ত


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপহার নেওয়ার সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী শ্বশুরবাড়িসহ অন্য কোনো জায়গা থেকে ৫০ হাজার টাকা বা তার সমপরিমাণের বেশি উপহার নিতে পারবেন না। এ ছাড়া সরকারের অনুমতি ছাড়া ৫ লাখ টাকার বেশি স্থাবর সম্পত্তি ও ১০ লাখ টাকার বেশি অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন না। তবে সরকারের অনুমতি নিয়ে তিনি এর চেয়ে বেশি সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন। তবে অনুমতি নেওয়ার সময় আয়ের উৎস সম্পর্কে সরকারকে জানাতে হবে।

এমন বিধান যুক্ত করে ‘সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিমালা-১৯৭৯’-এর সংশোধনী খসড়া চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিগগিরই এটি প্রণয়ন করা হবে। আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনের অপরাধ ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় সরকারি কর্মচারীর স্বামী বা স্ত্রীর রাজনৈতিক সংগঠনে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বামী বা স্ত্রীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলে তা সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বিদ্যমান বিধিমালায় সরকারকে জানানোর নিয়ম থাকলেও বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীই তা গোপন রাখতেন।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। মূলত বিধিমালায় কয়েকটি ধারায় সংশোধনী আসছে। এতে কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করার চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান বিধিমালায় যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা দূর করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অপর একটি সূত্র জানায়, আচরণবিধিমালা সংশোধনীর একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ অর্জন ও উপহার গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। কারণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সংশোধনীর যে মতামত পাওয়া গেছে এর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ অর্জন ও উপহার গ্রহণের পরিমান বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বিদ্যমান বিধিমালায় এর পরিমাণ যা রয়েছে তা বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এসব দিক বিবেচনা করে এ পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।

জানা গেছে, বিদ্যমান সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিমালায় অনেক বিষয় অস্পষ্ট। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমান বিধিতে বলা আছে, ইমারত নির্মাণ করতে হলে আয়ের উৎস উল্লেখ করাসহ সরকারের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। ফলে সরকারি কর্মচারীরা বাড়ি নির্মাণ করার বদলে বাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনছেন। এতে আয়ের উৎস দেখাতে হচ্ছে না, কিংবা সরকারের অনুমোদন নেওয়া লাগছে না।

সংশোধিত বিধিতে বলা হচ্ছে, বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট নির্মাণ বা কেনার ক্ষেত্রে প্রকৃত বাজারদর উল্লেখ করে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎস জানানোসহ সরকারের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাস্তবে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি না থাকলে অনুমোদন মিলবে না। আত্মীয়স্বজন কিংবা কারও কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ দেখালে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রদানকারীর পক্ষ থেকে লিখিত প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। আপন ভাই হলেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আয়কর রিটার্নেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে।

এ ছাড়া সংশোধনীতে সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক দাওয়াত গ্রহণের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। সচরাচর দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা প্রটোকলের বাইরে কর্মস্থল এলাকায় ঠিকাদারসহ সমাজের বিশেষ ব্যক্তিদের বাসায় গিয়ে কিংবা নিমন্ত্রণে যোগ দিয়ে দাওয়াত খেয়ে থাকেন। এতে করে দুর্নীতির নানা পথ প্রশস্ত হয় এবং নিমন্ত্রণদাতারা প্রশাসনিকভাবে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে থাকেন। এ জন্য ডিসি-এসপিসহ সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তার কর্মস্থলের আশপাশের এলাকায় দাওয়াত খেতে পারবেন না। তবে এক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়দের বিয়ে-শাদি ও সামাজিক অনুষ্ঠান গণ্য হবে না। নতুন এ বিধিমালা প্রণয়ন হলে সরকারি কর্মকর্তারা ইচ্ছা করলেও যত্রতত্র দাওয়াত গ্রহণ করতে পারবেন না।

সংশোধিত বিধিমালার ২৭(বি) ধারাকে আরও স্পষ্ট করা হচ্ছে। এতে সরকারি কর্মচারীর স্বামী বা স্ত্রীর রাজনৈতিক সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বিদ্যমান বিধিমালায় এ নিয়ম থাকলেও এর খুব একটা প্রতিপালন হতো না। কিন্তু সংশোধনীতে প্রতিপালনের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনীতিতে বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। কারও বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বরখাস্ত করা হবে।

এবার পরিবর্তন করা হলো স্কুল পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা

কলেজের পর এবার স্কুল পর্যায়ের ত্রয়োদশবেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার তারিখ পেছাল। স্কুল পর্যায়ের প্রিলিমিনারি টেস্ট আগামী ৬ মে’র পরিবর্তে ১৩ মে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে বৃহস্পতিবার এ কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৭ মে থেকে পিছিয়ে ১৩ মে নেওয়া হয়। কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হবে। দু’টি পরীক্ষারই সময় এক ঘণ্টা।

এখন দু’টি পরীক্ষায়ই একদিনে হচ্ছে। তবে কী কারণে সময় পরিবর্তন করা হল তা জানানো হয়নি।

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ পেতে এনটিআরসিএ সনদ বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন সনদের মেয়াদ আগে ৫ বছর থাকলেও ২০১৩ সালের ২০ জুন তা আজীবন করা হয়। সম্প্রতি ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ সংশোধন করে সনদের মেয়াদ তিন বছর করা হয়।

নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে আগামী ৭ মে’র মধ্যে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি নতুন নির্দেশনা জারি হয়েছে


সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি নতুন নির্দেশনা জারি হয়েছে
-
দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রত্যেক কলেজ, সমমান মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আবশ্যিকভাবে রোভার ও রেঞ্জার দল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহকে কমপক্ষে ছাত্রদের জন্য একটি রোভার দল এবং ছাত্রীদের জন্য একটি রেঞ্জার দল গঠনের নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক পরিপত্র জারি করে।
বাংলাদেশ স্কাউটসের নিয়ম অনুযায়ী রোভার এবং গাইডের নিয়ম অনুযায়ী রেঞ্জার-এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের এ পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।
পরিপত্রে রোভার ও রেঞ্জার তহবিলের অর্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনামা যথারীতি অনুসরণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

পরিপত্রে জানানো হয়, ছাত্র ও ছাত্রীদের নিকট থেকে মাথাপিছু ২০ টাকা রোভার স্কাউট ফি ও রেঞ্জার ফি বছরের শুরুতে সেশন চার্জের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে আদায় করতে হবে। ছাত্রদের নিকট হতে আদায়কৃত টাকা রোভার তহবিলে এবং ছাত্রীদের নিকট হতে আদায়কৃত টাকা রেঞ্জার তহবিলে জমা করতে হবে।
ধার্যকৃত ২০ টাকার মধ্যে ছেলেদের নিকট হতে আদায়কৃত ১৫ টাকা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও রোভার স্কাউট সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে রোভার তহবিল এবং মেয়েদের নিকট হতে আদায়কৃত ১৫ টাকা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও রেঞ্জার গাইডারের যৌথ স্বাক্ষরে রেঞ্জার তহবিল স্থানীয় ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব- এ জমা রাখতে হবে। অবশিষ্ট ৫ টাকা সংশ্লিষ্ট জেলা রোভার স্কাউটস সম্পাদক এবং নির্বাচিত জেলা গাইড কমিশনার বরাবর ক্রসড চেক/পে-অর্ডার মারফত জমা দিতে হবে।

রোভার দল ও রেঞ্জার ইউনিট পরিচালনাকারী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রত্যেক রোভার লিডার এবং রেঞ্জার গাইডারকে মাসিক ২০০ টাকা এবং উড ব্যাজধারী লিডার এবং ওয়ারেন্ট গাইডারকে ২৫০ টাকা হারে সম্মানী দিতে হবে।